নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমা খচিত পতাকা প্রদর্শনকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ইসলামের পবিত্র প্রতীক ও ধর্মীয় নিদর্শনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে যেকোনো অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাদা ও কালো রঙের কাপড়ে কালেমা তায়্যিবা খচিত পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এসব প্রতীককে ঘিরে বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে অপপ্রচারের চেষ্টা হতে পারে। এতে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ তাআলা ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস বা অনুশীলনের স্থান নেই।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা, ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি এবং আলেম-ওলামারা অংশ নেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী আলেমরা বলেন, ধর্মপ্রাণ অনেক তরুণ আন্তরিক ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই কালেমা খচিত পতাকা বহন করছেন। তবে পরবর্তীতে একটি বিশেষ মহল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

