দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ঢাকায় এবং অন্যজন বরিশালে মারা গেছেন।
রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসেই মারা গেছেন চারজন। এছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুইজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৩ জন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া বরিশালে ৫৪ জন, খুলনায় ৫২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭০৩ জন, যা বছরের সর্বোচ্চ মাসিক সংক্রমণ।
মাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসে ৭১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ৭ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা একটি কঠিন লড়াই। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এবং যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতে সক্ষম। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
এদিকে দেশে হাম পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৫৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮০ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ও হাম—দুই রোগের বিস্তার রোধে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

