Saturday, November 7

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সুপারি বাগানে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে তিনটি ছাগল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। বিচার না পেয়ে মৃত ছাগল নিয়ে থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার মেনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. ছাইদুল ইসলাম (৪৫)। এর আগে বিকেলে একই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনায় তাদের প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাইদুল ইসলামের আটটি ছোট-বড় ছাগল বাড়ির পাশের একটি সুপারি বাগানের আশপাশে ঘাস খেতে যায়। ওই সময় বাগানে কাজ করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কাজ শেষে অভিযুক্তরা ছাগল মালিকের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন যে, ভবিষ্যতে ছাগল বাগানে প্রবেশ করলে সেগুলো আর বেঁচে থাকবে না।

এর কিছুক্ষণ পর ছাগলগুলো খুঁজতে গিয়ে ছাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আজুফা খাতুন দেখতে পান, দুটি পাটি ছাগল ও একটি তিন মাসের গর্ভবতী ছাগল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। পরে তারা নিশ্চিত হন, ছাগলগুলো মারা গেছে।

ছাগল মালিকের স্ত্রী আজুফা খাতুন বলেন, “ছাগলগুলোর একমাত্র অপরাধ ছিল তারা বাগানে ঢুকেছিল। আমরা গ্রামের মানুষের কাছে বিচার চেয়েও কোনো সমাধান পাইনি। তাই মৃত ছাগল নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেছি।”

ভুক্তভোগীর স্বজন রমজান আলী জানান, ছাইদুল ইসলাম অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান এবং তার স্ত্রী ছাগল-মুরগি পালন করে পরিবারকে সহায়তা করেন। তাদের জন্য এই ক্ষতি বড় ধাক্কা।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
8 + 2 =