Saturday, November 7

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তার দাবি, সেখানে বসার কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার জামার কলার ধরে টানাটানি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ওই স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।”

আম্মারের ভাষ্য অনুযায়ী, খেলা দেখার সুবিধার্থে মাঠের এক পাশে ছাত্রীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে অনেক দর্শকের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি সংশ্লিষ্ট স্থান খালি রাখতে অনুরোধ করেন।

পাল্টা অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলাম শহিদ সেখানে বসার কারণে পেছনের সারির শিক্ষার্থীদের খেলা দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, দড়ি দিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। তবে ঘটনার সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তিনি বলেন, “খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।”

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
59 − 57 =