Saturday, November 7

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্কুলের ছাত্রাবাসে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

নিহত মেহেদী হাসান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি-এর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাড়ি রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার রাঘবপুর গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী।

একাডেমির আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর একটি আইফোন হারিয়ে যায়। পরে মেহেদীর বিরুদ্ধে ফোন চুরির অভিযোগ তোলা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোন হারানো শিক্ষার্থীসহ ৯ জন সিনিয়র ছাত্র মেহেদীকে একটি কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে তার কাছ থেকে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ।

ইসমাইল হোসেনের দাবি, ঘটনার পর মৃত্যুর কারণ আড়াল করতে অভিযুক্তরা মেহেদীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। পরে মাগরিবের নামাজের আগে তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

তবে পুলিশ বলছে, মেহেদীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কয়েকশ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের সামনে জড়ো হন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আবাসিক শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কাজী আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও জনতার সংখ্যা বেশি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে গভীর রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের চাচা জুয়েল রানা বলেন, “আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার চাই।”

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ ও দাবি থাকলেও চূড়ান্ত সত্যতা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
8 + = 14