Saturday, October 24

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তিনি বলেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনগত রাত ৩টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রুমি। এ সময় তিনি মেয়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

রুমি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? যদি আমি মব সৃষ্টি করতাম, তাহলে সেখানে ২০০ লোক ছিল, তারা সবাই আমাকে মারল না কেন? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য

মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমি বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল বলে তিনি স্বীকার করছেন। এর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে তার দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল এবং এ সময়ের ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভাঙতে চাইনি।’

মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের জবাবে রুমি বলেন, প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তিনি কোথায় ওই টাকা নিয়েছেন, তা ফুটেজ পর্যালোচনা করে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

রুমি বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

‘আমি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নই’

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রুমি বলেন, তিনি মাদ্রাসা কিংবা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বিনি শিক্ষার উদ্দেশ্যেই মেয়েকে সেখানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

ঘটনার পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে রুমি বলেন, এ ঘটনার পর তিনি এক রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। একজন বাবা হিসেবে সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানার পর নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

অধ্যক্ষকে আগেই অভিযোগ জানানোর দাবি

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রুমি। তার ভাষ্য, ঘটনার বিষয়ে তিন দিন আগে অধ্যক্ষকে জানালেও তিনি বারবার কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। পরে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমি আরও দাবি করেন, মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি মেয়েকে আবারও মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী ঘটনা সামনে আসার পর মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ বেড়েছে।

তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির নানাকে বার্তা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার কথা জানিয়েছিলেন।

শিশুকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

শিশুটিকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন রুমি। তিনি বলেন, বাসায় গিয়ে কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ কারণে শিশুটি ভয়ে তিন দিন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি; পরে মায়ের কাছে তা প্রকাশ করে।

রুমি বলেন, কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি।

নিজের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গেও কথা

নিজের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে রুমি বলেন, বিকেলে তিনি এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, ‘আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি মামলায় লড়ব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’

দেশবাসীর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে রুমি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে মেয়ের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রুমির বন্ধু তাজ।

উল্লেখ্য, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ নেওয়ার অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

Leave A Reply


Math Captcha
84 + = 92