মনছুর আলম মুন্না, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। নীল আকাশ, সাগরের ঢেউ আর সৈকতের বালুকাবেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটননগরী।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের ছুটিতে কক্সবাজারে প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এতে দীর্ঘদিন স্থবির থাকা পর্যটন খাতে নতুন গতি এসেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর হিসাবে, আবাসন, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। শহরের সাড়ে পাঁচ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি কক্ষ আগাম সংরক্ষিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রেস্তোরাঁ, বিচ বাইক, কিটকট, ফটোগ্রাফার, শুঁটকি ও ঝিনুকের দোকানও।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, ইনানী, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, মেরিন ড্রাইভ ও টেকনাফ রুটেও পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ঝলমলে রোদে পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রস্নান, ঘোরাঘুরি ও ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকরা।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কম। ছুটি পেয়ে তাই কক্সবাজারে চলে এসেছেন। সৈকতে মানুষের ভিড় ও পরিবেশ ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি।
দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক পারভীন আক্তার জানান, মহেশখালী, ইনানী বিচ ও হিমছড়িসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার লোকমান হোসাইন অপু বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ভালো মানের হোটেল-রিসোর্টগুলোর অধিকাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পূজার ছুটিতে প্রায় ৮ লাখ পর্যটক আসতে পারেন। প্রতিমা বিসর্জনের দিনই দুই লাখের বেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটকদের চাপ সামলাতে বাংলাদেশ রেলওয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোশাররফ হোসেন জানান, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেসের পাশাপাশি ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, রামু ও উখিয়া এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অতিরিক্ত মূল্য আদায়, হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ছুটিতে বিপুল পর্যটকের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

