Tuesday, October 20

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশের ঘুণ্টিঘর এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা। কিশোর থেকে বৃদ্ধ, এমনকি নারীরাও জড়িত এই কারবারে। গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ২৪ ঘণ্টা বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে ‘একেবারে গুলি করে দেব’ বলতেও শোনা যায়। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

তবে অভিযানের পরদিন রোববার (১৮ অক্টোবর) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাদক কেনাবেচা আগের মতোই চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদকের কারবার চললেও গত কয়েক মাসে তা আরও বেড়েছে। প্রতি পুরিয়া গাঁজা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকার মাদক বিক্রি করলেও পাইকারি বেচাকেনা লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে দাবি তাঁদের।

এলাকায় কথা হয় দুই নারী মাদক বিক্রেতার সঙ্গে। তাঁদের একজন বলেন, জীবিকার তাগিদে তিনি মাদক বিক্রি করছেন এবং তাঁর সন্তানরাও এ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। আরেক নারী জানান, স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে তাঁকে এই ব্যবসায় নামতে হয়েছে।

মাদক কারবারের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মাদক বিক্রেতারা ক্রেতা ভেবে ডাকাডাকি করায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাঁদের। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, আগে থেকেই সেখানে মাদক কেনাবেচা চললেও সম্প্রতি তা বেড়েছে। এ কারণে তাঁরা অনেক সময় ওই পথ এড়িয়ে চলেন।

শনিবারের অভিযানে পুলিশ নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ বার বৈঠক করেও কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। পুলিশ জনবল ও গাড়িসংকটসহ নানা অজুহাত দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অতীতে মাদক কারবারিদের গুলিতে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন ইশরাক। নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, কাউকে ভয় দেখানো নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

তবে গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চালানো হয়। প্রতিবার অভিযানে ২০ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে অনেকে আবার একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এলাকায় ভাসমান মানুষের আনাগোনা বেশি থাকায় মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে অভিযানের সময় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘন বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: সমকাল

Leave A Reply


Math Captcha
+ 40 = 41