দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে নিজ ঘর থেকে এক গৃহবধূ ও তার দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মা’রা যাওয়া তিনজন হলেন—মোস্তফাপুর গ্রামের মাহাতাব হোসেনের ছেলে শাকিলের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২৩), তার চার বছর বয়সী ছেলে সাফায়েত হোসেন ও এক বছর বয়সী মেয়ে রাইসা আক্তার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক কলহের জেরে রোববার বিকেলে স্বর্ণা দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে স্বর্ণার স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ও তার দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বর্ণার স্বামী শাকিল, শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন ও শাশুড়ি ইসমত আরাকে আটক করেছে পুলিশ।
দেয়ালে লেখা নানা বার্তা
স্বর্ণার শোবার ঘরের দেয়ালে কয়েকটি লেখা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে এক জায়গায় লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। আমি অভাগি মা…। আমাদের লাশ পলাশবাড়ী মাটি দেন। সাকিল যেন না ছোঁয়। মা-বাবা সরি, আই লাভ ইউ।’
অন্য একটি দেয়ালে লেখা ছিল, ‘সাফায়াত রাইসা-মনি, আই লাভ ইউ কলিজা পাখিরা আমার।’
তবে এসব লেখা কী পরিস্থিতিতে এবং কার মাধ্যমে লেখা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঝুলন্ত মরদেহ নিচে নামিয়ে মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

