সিলেট বিভাগের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকার কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই; ঘাটতি রয়েছে সুযোগ, অবকাঠামো ও কার্যকর নেতৃত্বে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুণগত শিক্ষার প্রসার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতার হারসহ শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই এ চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতার ক্ষেত্রেও বিভাগটি পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের মানুষ তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাই এ অঞ্চল পিছিয়ে থাকার পেছনে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অন্যান্য কাঠামোগত কারণ রয়েছে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকসংখ্যা, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত খাবার না খেয়েই বিদ্যালয়ে আসে। তাই শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিডডে মিল চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তরুণদের কর্মমুখী করে তুলতে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, বিদেশি সহযোগিতায় সিলেটে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। সিলেটে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকটের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যারও সম্পর্ক রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। তাই বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।
জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।

