Wednesday, October 7

ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই অর্থের মাধ্যমে ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ভাতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিয়মিত মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিভিন্ন নাগরিক ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। রেল, বিমান ও সড়কপথে ক্রীড়াবিদদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্রীড়াবিদরা যাতে আশা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারেন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

চার মাস পরপর হবে মূল্যায়ন

ক্রীড়াবিদদের সহায়তার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশের ৩০০ জনকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যোগ্যতা ও ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নতুন ক্রীড়াবিদদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, শিগগিরই আরও ৯৫ জন ক্রীড়াবিদকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ৩১ জনকে ভাতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতি চার মাস পরপর পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। এতে কেউ বাদ পড়বেন, আবার যোগ্য নতুন ক্রীড়াবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদানের জন্য সরকার আলাদাভাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অর্থের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আন্তর্জাতিক সাফল্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

সভায় সম্প্রতি বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি—আগেও এমন কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের ভালো ফলাফলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকে পদকের জন্য লড়াই করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এশিয়ান গেমসসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো সামনে রেখে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের নাগরিক ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের খেলাধুলায় আরও মনোযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 3