জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বিদায় নিলেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার তারকা স্ট্রাইকার এডিন জেকো। সুইডেনের বিপক্ষে জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে খেলেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের শেষ ম্যাচ। ৪০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিদায় ঘিরে ম্যাচজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ।
ম্যাচে বসনিয়ার সমর্থকগোষ্ঠী ‘বিএইচ ফ্যানাটিকোস’ তাদের প্রিয় ১১ নম্বর জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গ্যালারিতে বিশেষ কোরিওগ্রাফি প্রদর্শন করে। প্রথমার্ধে ভিএআরের কারণে জেকোর একটি গোল বাতিল হয়। ফলে বিদায়ী ম্যাচে গোল করে স্মরণীয় হয়ে থাকার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার।
ম্যাচের ৬২তম মিনিটে জেকো মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়ামের দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। প্রতিপক্ষ সুইডেনের খেলোয়াড়রাও যোগ দেন সেই মুহূর্তে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জেকো বলেন, বসনিয়ার জার্সির প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি। জাতীয় দলের হয়ে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলে যাওয়াকে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বসনিয়াকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জেকোর। যুদ্ধবিধ্বস্ত সারাজেভো থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
বিদায়ী ম্যাচ শেষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে জেকোর জন্য বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মানবিক সংস্থা ‘Pomozi.ba’-এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় একটি দাতব্য কর্মসূচিও।
শেষবারের মতো সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে জেকো যখন মাঠে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেন, তখন গ্যালারি থেকে মাঠে ছুড়ে দেওয়া হয় হাজার হাজার সফট টয়। পরে এসব পুতুল দেশের বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
জেকোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে বসনিয়ার জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল।

