পবিত্র ঈদে মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন,
“ঈদে মেরাজ শরীফ আলোকিত জীবন ও মানবতার মুক্তির উৎস।”
তিনি বলেন, মহান মেরাজ শরীফ হলো দয়াময় আল্লাহতাআলার সাথে প্রাণাধিক প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের মোবারক প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের অনন্য ঘটনা, যা সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার সংযোগ, বন্ধন ও অসীম করুণার উৎস।

আল্লামা ইমাম হায়াত আরও বলেন, মহান মেরাজ শরীফ প্রিয়নবীর মাধ্যমে আল্লাহতাআলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রকাশ—যা মানবজাতির জন্য সত্যের আলো, জীবনের কেন্দ্র এবং সর্বকল্যাণের দিকনির্দেশনা। সঠিকভাবে ঈদে মেরাজ শরীফের শোকরিয়া ও উদযাপন না হলে জীবন মিথ্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ঈদে আজম ও ঈদে মেরাজ হুকুমগত বিধিবদ্ধ ঈদ না হলেও এটি ঈমানী হৃদয়ের ঈদ, ঈমানী প্রাণের ঈদ এবং অসীম ভালোবাসার ঈদ—যার সাথে অন্য কোনো আমলগত বিষয়ের তুলনা চলে না। বরং এটি সব ঈদের উৎস।
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, আল্লাহতাআলার সাথে যুক্ত হওয়াই অস্তিত্ব রক্ষার মূল ভিত্তি এবং সেই সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম। মেরাজ শরীফের মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসায় সব মানুষকে ভালোবাসা এবং মানবতার কল্যাণ সাধন।

তিনি আরও বলেন, মেরাজ শরীফ মানবজাতির জন্য একটি সর্বজনীন মানবিক সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকদর্শন দেয়—যা তিনি ‘খেলাফতে ইনসানিয়াত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে আল্লামা ইমাম হায়াত ঈদে মেরাজ শরীফ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণার দাবি জানান এবং মহান দে মেরাজুন্নবী (সা.)–এর শিক্ষা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সত্য ও মানবতায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

