ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তবে সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, যেকোনো আলোচনা হতে হবে যন্তর মন্তর বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দিন দিন আরও সংগঠিত হয়ে উঠছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট বহু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের ডাকে কোনো সরকারি কার্যালয়ে তারা আলোচনায় বসবেন না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তরুণদের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তবে আন্দোলনকারীদের মতে, শুধু শাস্তির ব্যবস্থা করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য পরীক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার করতে হবে।
অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার যদি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার লিখিত নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি অনশন প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১০টি এজাহার দায়ের করেছে। বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক পুলিশ সদস্যকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, আবার বিক্ষোভে অংশ নিলে তাদের মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো হবে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য পবন সাঙ্গলেকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সমর্থনে করা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ডিনের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী থাকায় দিল্লির চলমান এই ছাত্র আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে দেশটির রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গন।

