Friday, November 6

মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান। গাড়িতে বসে গান গাওয়ার সেই ভিডিওতে তিনি গাইছিলেন—‘মার্ডার মার দে সড়ক কে ওপর’, যার অর্থ ‘রাস্তায় হত্যা করো’। ভিডিও প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন তিনি। এ কারণে তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় শামলি শহরের আর্যপুরী নালা পাটরির কাছে একটি জিম থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠছিলেন অঙ্কিত। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হামলাকারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রায় ১৮ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা অঙ্কিতকে মৃত ঘোষণা করেন।

হরিয়ানভি সংগীতের পাশাপাশি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পরিচিত ছিলেন অঙ্কিত। তাঁর বেশ কয়েকটি গানে অস্ত্র, সংঘর্ষ ও গ্যাংস্টার সংস্কৃতির উপাদান দেখা গেছে। তিনি ৫০টির বেশি গানে কাজ করেছেন।

শেষ ভিডিও ঘিরে রহস্য

হত্যার আগে প্রকাশিত অঙ্কিতের শেষ ভিডিওটি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে গাওয়া ‘মার্ডার’ শব্দযুক্ত গান এবং এর মাত্র দুই ঘণ্টা পর তাঁর হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে ওই ভিডিওর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশ হত্যার কারণ খুঁজতে অঙ্কিতের পুরোনো বিরোধ, হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্তে হামলাটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা অঙ্কিতের গতিবিধি আগে থেকেই জানত কি না, তা জানতে জিম ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আগেও হুমকি পাওয়ার অভিযোগ

অঙ্কিতের পরিবার জানিয়েছে, এর আগে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে অঙ্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেছিলেন, হরিয়ানার কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করছেন। তিনি সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কথাও জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ।

হত্যার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অঙ্কিতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধও করা হয়। তবে এখনো হত্যার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পুরোনো বিরোধ, হুমকি, অর্থসংক্রান্ত বিষয়সহ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে মৃত্যুর দুই ঘণ্টা আগে প্রকাশিত ‘মার্ডার’ গানটি আপাতত আলোচিত একটি কাকতালীয় ঘটনা হলেও এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
37 − = 33