মুম্বাইয়ে ট্রেনের সংরক্ষিত আসন নিয়ে বচসার জেরে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মডেল-অভিনেত্রী অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ। পরে নোটিশ দিয়ে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
রোববার (১২ আগস্ট) অরাবল্লী এক্সপ্রেসের একটি সংরক্ষিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরায় ওঠার পর আরপিএফ কর্মীদের সঙ্গে অন্তরার বচসা হয় বলে অভিযোগ। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পোশাক খুলে ব্লেড হাতে নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, একটি শুটিংয়ের কাজে সুরাট যাচ্ছিলেন অন্তরা। তার কাছে স্লিপার শ্রেণির টিকিট ছিল। অভিযোগ, ওই টিকিট থাকা সত্ত্বেও তিনি অরাবল্লী এক্সপ্রেসের সংরক্ষিত এসি কামরায় উঠে পড়েন।
রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বোরিভলি ও দহানুর মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, এক যাত্রী অন্তরাকে সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি আরপিএফকে জানানো হয়। পরে আরপিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর যামিনীকান্ত মিশ্র ও কনস্টেবল রাজেশ কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অন্তরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে তার আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, পরে তিনি নিজের পোশাক খুলে হাতে রেজর ব্লেড নিয়ে আরপিএফ কর্মীদের ভয় দেখাতে শুরু করেন। ওই ব্লেড দিয়ে এক কর্মকর্তাকে আঘাতও করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্তরাও আহত হন। আরপিএফ কর্মকর্তা যামিনীকান্ত মিশ্রের অভিযোগ, অভিনেত্রী তার পোশাক ও মোবাইল ফোনও ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় কামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন কামরা থেকে বের হওয়ার জন্য অন্তরা জানালার কাচ ভাঙার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে দহানু স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে সরকারি রেল পুলিশকে (জিআরপি) হস্তান্তর করা হয়। পুরো ঘটনা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলায় ট্রেনের অন্য যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বোরিভলি রেল পুলিশ অন্তরাকে হেফাজতে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, এসি কামরার টিকিট না পাওয়ায় অভিনেত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
পুলিশের দাবি, তাকে পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। বরং নিজেই তাকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।
এ ঘটনায় জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, সরকারি কর্মীকে গুরুতরভাবে আহত করা, হামলা ও ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে নোটিশ দিয়ে অন্তরাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

