নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের বনাঞ্চলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বন্য হাতি হত্যার ঘটনা। বন বিভাগের তথ্য বলছে, গত এক দশকে গুলিতে অন্তত ৯টি হাতি নিহত হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা অন্তত ১৮। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, নিহত হাতির বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়।

২০২৩ সালের ১১ জুন গভীর রাতে কক্সবাজারের খুটাখালী বনসংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ একটি হাতি স্থানীয় বাসিন্দা হাসিনা বেগমের বাড়ির আঙিনায় এসে পড়ে। পরদিন হাতিটির মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, ধানক্ষেত রক্ষার নামে হাতির পাল লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় বন বিভাগের মামলায় একজন ভিলেজার কারাভোগও করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধান পাকার মৌসুমে বনসংলগ্ন এলাকায় গাছের ওপর নির্মিত মাচাংয়ে অবস্থান নিয়ে দেশীয় গাদাবন্দুক দিয়ে হাতির ওপর গুলি চালানো হয়। বন বিভাগের নথিতেও হাতি হত্যার ঘটনায় কয়েকজন ভিলেজারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

আইইউসিএনের ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বন্য হাতির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬৮টি। পরে প্রজাতিটিকে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। হাতির প্রধান আবাসস্থল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারে প্রতিটি বিট অফিসে ২০ থেকে ২৫ জন নিবন্ধিত ভিলেজার রয়েছেন। এসব পরিবারের অনেকেই বনভূমিতে কৃষিকাজ করেন। ফসল রক্ষার অজুহাতে একাংশ হাতি হত্যায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাতির ময়নাতদন্তে যুক্ত ভেটেরিনারি সার্জনদের ভাষ্য, কক্সবাজারে নিহত হাতির অন্তত ৭০ শতাংশের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে হাতির দেহ থেকে দেশীয় গাদাবন্দুকের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মহেশখালী ও চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় অস্ত্র তৈরির চক্র সক্রিয় রয়েছে। অতীতে একাধিক অবৈধ অস্ত্র কারখানার সন্ধানও পাওয়া গেছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতি হত্যা বন্ধে শুধু বন বিভাগের অভিযান যথেষ্ট নয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হাতির চলাচলের করিডর রক্ষা, বিদ্যুতের ফাঁদ অপসারণ, মাচাং ভেঙে ফেলা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের মহাবিপন্ন এ প্রাণী আরও বড় সংকটে পড়বে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 5