Thursday, October 15

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সামিনা লুৎফা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করছে। কথা বলা বা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে যেসব শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সংহতি জানাতেই ব্যক্তিগতভাবে এ প্রতিবাদ করেছেন তিনি।

পোস্টে তিনি আরও জানান, সেদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেন। অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কী করা যাবে বা যাবে না এবং মতবিরোধ তৈরি হলে তা কীভাবে সমাধান করা হবে, সেসব বিষয়েও কথা বলেন। আলোচনা শেষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থাকেন তিনি।

শিক্ষকদের অধিকার ও একাডেমিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে সামিনা লুৎফা লেখেন, শিক্ষকদেরও অধিকার রয়েছে। প্রশ্ন তোলা, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা রাজনৈতিক মতামতের কারণে শিক্ষকদের হয়রানি করে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে সংহতি জানান তিনি। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার বিষয়েও আপত্তি জানান এ অধ্যাপক।

নিজের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন, অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল সংবাদ প্রকাশ এবং অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে ভিডিও ধারণের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষের কোনো আচরণ বা আলোচনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলে একাডেমিক পরিসরেই তা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। মতের অমিল থাকলেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সহাবস্থান করা উচিত।

পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য হতে চান না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সামিনা লুৎফা। শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের জন্যও একই স্বাধীনতা প্রত্যাশা করেন তিনি। একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথাও জানান এ অধ্যাপক।

পোস্টে তাসনিম সিরাজ মাহবুব ও লায়েকা বশীরসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সুস্থ আলোচনা, মতবিনিময় এবং নিজ নিজ বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ‘রিক্লেইম ক্লাসরুম’ বা শ্রেণিকক্ষের অধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে আলোচনাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর ৮ অক্টোবর জরুরি সভা ডেকে তাসনিম সিরাজকে বিভাগের সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

Leave A Reply


Math Captcha
30 − 24 =