Thursday, October 8

গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয় ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশসহ চার দফা দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি’ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে বক্তারা প্রিপেইড মিটার বাতিল করে আগের ডিজিটাল মিটার ব্যবস্থা বহাল রাখা, বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ করা এবং প্রিপেইড মিটারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগের সঞ্চালনায় বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার নিত্যপণ্য, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ক্বাফি রতন অভিযোগ করেন, দেশীয় শিল্প-কারখানা বিক্রির ধারাবাহিকতায় সরকার এখন বিদ্যুৎ খাতও বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, যে প্রযুক্তি জনগণের ওপর শোষণের বোঝা বাড়ায়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সরকারের অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা উচিত।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শুভ কিবরিয়া বলেন, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে। দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে কোনো উন্নয়নই জনগণের কাজে আসবে না।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা রিতু, সাম্যবাদী আন্দোলনের মঞ্জুর আলম মিঠু, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্রাহক ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।

বক্তারা গ্রাহক হয়রানি বন্ধে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয় ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave A Reply


Math Captcha
67 + = 75