Sunday, November 8

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত সবুজ রানা (২৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি শহিদুল মণ্ডল (৫০) ও তাঁর ছেলে শাহিন মণ্ডলকে (৩৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়িয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার বিকেলে আসামি সবুজ রানার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী জানান, গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশ জানায়, সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। জবানবন্দিতে সবুজ রানা জানিয়েছেন, নানা নমির উদ্দিনের কাছ থেকে বেশি জমি লিখে নেওয়ায় তিনি তাঁর মামা হাবিবুর রহমানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ বিরোধের জের ধরেই মামা, মামি ও তাঁদের দুই সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সবুজ রানা স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে বিচারক মোনাবিল হক তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য দুই আসামি শহিদুল ও শাহিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে সবুজ জানান, গত সোমবার দুপুরে তিনি তাঁর মামা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে গরু কিনতে ছাতড়া হাটে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর শহিদুল ও শাহিনের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করেন। রাতে হাবিবুরের বাড়িতে খাবার খেয়ে তিনি বেরিয়ে যান। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন মূল দরজা খুলে দেন এবং শহিদুল, সবুজসহ আরও কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হাবিবুর রহমানকে চেপে ধরে তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে স্ত্রী পপি সুলতানা ঘর থেকে বের হলে তাঁকেও হত্যা করা হয়। ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তারকে (৩) একইভাবে হত্যা করা হয়।

গত সোমবার রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা, ছেলে পারভেজ রহমান ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগনে শাহিন এবং সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে।

Leave A Reply


Math Captcha
39 + = 42