Sunday, November 8

সুনামগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পুরুষদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। মুঠোফোনে সম্পর্ক গড়ে তুলে বাসায় ডেকে এনে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, মারধর এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ী প্রায় ছয় লাখ টাকা খুইয়েছেন। আরেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে সোনা ও নগদ টাকা। এছাড়া এক সরকারি কর্মচারী নির্যাতনের পাশাপাশি কিছু অর্থ হারিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের এক নারী সদস্য ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রতন শেখ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর হানি ট্র্যাপ চক্রের দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে আরও দুই ব্যবসায়ী একই কৌশলে প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য দিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অজিত চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তি ভুক্তভোগী সরকারি কর্মচারীকে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে ওই নারী তাঁকে শহরের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করেন। বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও মারধরের পর ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিছু টাকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান এবং পরে অভিযোগ করেন।

পুলিশ অজিতকে আটক করে তাঁর মাধ্যমে ওই নারীকে শহরে ডেকে আনে। নারীটি আসলে তাকেও আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরে আরও দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন—

  • একজনকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও করা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেওয়া হয়।
  • আরেকজন ব্যবসায়ীকে একইভাবে মারধর করে সোনা ও নগদ টাকা নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 57 = 67