ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো তাদের ধাহরান সদরদপ্তরের কর্মীদের ভবন ছেড়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছয়টি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম আরামকোর ধাহরান সদরদপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হলো। তবে কী কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তারা লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু শহরে আরামকোর স্থাপনা এবং রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনার আকাশে কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর হুতিদের হামলায় আরামকোর ধাহরান সদরদপ্তরের কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটি।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় ধাহরানের কাছে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের এক নাগরিক ও এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। আহত হন আরও আটজন। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরটির কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ৮৮ সেন্টে পৌঁছায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও হুতিদের নতুন করে সংঘাতে ২০২২ সালের জাতিসংঘ-মধ্যস্থ যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

