Wednesday, October 21

কক্সবাজারের মহেশখালীতে জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি এবং সেই বিরোধের জেরে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে জমিতে ঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী মাহমুদুল্লাহ ও তাঁর পরিবার।

এ ছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে বিরোধ মেটানোর বৈঠকে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা, নয়তো জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদুল্লাহ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের ওপর তিন দফায় হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। সম্প্রতি তাঁদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মাহমুদুল্লাহ। মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ফকিরাঘোনা এলাকার মৌলভী আনছুর আলী পাড়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় ছাবের মিয়া, মোস্তাক মিয়া, জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদু আলম নিরু ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নেজাম উদ্দিনের নামও অভিযোগে এসেছে। তবে চাঁদাবাজি বা অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিরু।

তিন দফা হামলার অভিযোগ

মাহমুদুল্লাহর দাবি, খতিয়ানভুক্ত জমিটি তাঁদের কেনা সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেখানে বসবাস করছেন এবং গাছপালা লাগিয়ে জমিটি ভোগদখল করছেন। কিন্তু ছাবেরের লোকজন তাঁদের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে কয়েকবার মহেশখালী থানায় অভিযোগও করেছেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে বৈঠক হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। বরং জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে সেখানে কোনোভাবেই ঘর তুলতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের পরিবারের ওপর তিন দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে বন্দুক, দা ও কিরিচ নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর বাঁ হাতের কবজি ভেঙে যায়। তাঁর ৪৮ বছর বয়সী ছোট ভাই রহমত উল্লাহর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর কানের পর্দা ফেটে গেছে বলেও দাবি পরিবারের।

হামলায় বাড়িঘর ও বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আহতদের কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

জমির অর্ধেক মূল্য, নয়তো অর্ধেক জমি

মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, বিরোধ মেটানোর কথা বলে জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদু আলম নিরুর ব্যক্তিগত সহকারী নেজাম উদ্দিন পুলিশের উপস্থিতিতে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা, নয়তো জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এ বিষয়ে নেজাম উদ্দিন বলেন, মূলত ছাবেরের লোকজন তাঁকে বিরোধ মেটানোর জন্য টাকার কথা বলতে বলেছিলেন। তিনি তাঁদের হয়ে কথাটি বলেছেন, নিজের কোনো দাবি-দাওয়া নেই।

মকছুদু আলম নিরু বলেন, তিনি ছাবেরের পক্ষ হয়ে থানায় যাননি; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। তিনি চাঁদাবাজি করেছেন বা অভিযুক্তদের আশ্রয় দিয়েছেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বিরোধটি মেটানোর চেষ্টা করেছেন।

জাল স্ট্যাম্প তৈরির অভিযোগ

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাবের ও তাঁর লোকজন জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

মাহমুদুল্লাহর কাছে জমির মালিকানা দাবি করে যে স্ট্যাম্প দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ, সেটিতে আমান উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে আমান উল্লাহ বলেন, তাঁর বাবা আবদু রশিদসহ জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে ছাবেরের লোকজনকে কোনো স্ট্যাম্প দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাঁর দাবি, স্ট্যাম্পটি জাল তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রমাণের জন্য ছাবেরদের সঙ্গে বসতে চাইলেও তাঁরা সালিশে আসেন না।

অভিযোগের বিষয়ে ছাবেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে একই ধরনের একটি ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আর টাকা দাবি করবেন না বলে ছাবের প্রতিবেদককে আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কথোপকথনের একটি রেকর্ডও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান বলেন, সালিশ বৈঠকে ছাবেরের পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে একটি স্ট্যাম্প দেখিয়েছে। অন্যদিকে, মাহমুদুল্লাহর কাছে খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকানার রেকর্ড রয়েছে। তাঁরা পরস্পর আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ওসি আরও বলেন, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এখনো এজাহার দেননি। এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 58 = 65