ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার কোনো চান্সই নাই।’ তিনি আরও বলেন, যারা দেশ থেকে বিতাড়িত হন, তাদের ফিরে আসার সুযোগ খুব কম এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ।
শেখ হাসিনার ভারত থেকে ভার্চুয়ালি লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত থেকে লন্ডনে ভার্চুয়ালি কথা বলার মতো কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ওয়ার্থলেস অ্যাক্টিভিটিজ’ বা মূল্যহীন কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখেন।
কেইপিজেড প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, আগের বিএনপি সরকারের সময়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বলেই শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সেটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তিনি এ ধরনের আচরণকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের রাজনীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে একাধিক সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে মানুষের ওপর নির্যাতন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা ঘটেছে। এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
১৯৯৯ সালের একটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গও টানেন হুমায়ুন কবির। ওই রায়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ বা একগুঁয়ে বলে উল্লেখ করেন এবং রায়ের সঙ্গে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার তুলনা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার অতীতের কোনো সরকারের করা ভালো কাজ বাতিল না করে তা চালু রাখার নীতিতে এগোবে। এ প্রসঙ্গে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের উদাহরণও দেন।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার বিষয়ে বক্তব্য এসেছে। জুলাইয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শেখ হাসিনাসহ বিদেশে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

