জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কার্যালয় ঘিরে যুবদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব শৌর্য দীপ্ত সূর্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ঘেরাও করা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তার প্রতিকার করা উচিত।
তিনি বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে অবস্থান নেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৭৮ জনকে হেফাজতে নেয়। তাদের পরিচয় যাচাই শেষে অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২৭ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রে’প্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
জিএম কাদের বলেন, জাসদ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সভাটি ছিল দলের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল।
এ ঘটনাকে গণতন্ত্র চর্চার ব্যত্যয় ও অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রে’প্তার হওয়া ২৭ জনের জামিন আবেদন ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত নামঞ্জুর করেছেন। আদালত জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ফলে তারা আপাতত কারাগারেই রয়েছেন।
জিএম কাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

