Friday, November 6

বিদেশে নিজের কোনো অর্থ, সম্পদ বা বিনিয়োগ থাকার প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি দেওয়া হবে, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে কোথাও যদি আমার ১ পয়সা বিনিয়োগ, ব্যাংকে রাখা, ভিলা, জমি তো দূরের কথা একটা ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আর যা শাস্তি হবে মাথা পেতে নেব।’

বিদেশে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সম্পদের তথ্য বের করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, দেশের বাইরে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সরকার এর আগেও বের করেছে। সরকারেরও এ ধরনের তথ্য বের করার সক্ষমতা রয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিকভাবে কতটা ‘দেউলিয়া’ হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা একটি ভুঁইফোঁড় সংবাদমাধ্যমের সাত মাস আগের ফেসবুক পোস্ট কপি-পেস্ট করে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হতে পারে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ছয় মাসেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং দেশ পরিচালনায় ‘চূড়ান্ত ব্যর্থতা’ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘নাটক’ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে দমন-পীড়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের পার্থক্য কোথায়, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

যেসব অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

এর আগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে আসিফ মাহমুদ জড়িত ছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদক বিষয়গুলো অনুসন্ধান করছে এবং অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা থেকে এনসিপিতে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে।

২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave A Reply


Math Captcha
1 + = 7