Thursday, November 5

সহকর্মীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ও ক্ষোভমিশ্রিত দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সুখে-দুঃখে পাশে থাকার স্মৃতি তুলে ধরে বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, কিছু মানুষের আচরণ দেখে তিনি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না। যাদের সঙ্গে একসময় সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতেন, একই মেকআপ রুমে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় কাটাতেন, তাদের সঙ্গে মেকআপ, কস্টিউম ও গয়না পর্যন্ত ভাগাভাগি করার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

অভিনেত্রী বলেন, সহকর্মীদের সুখে যেমন তিনি আনন্দিত হতেন, তারাও তার আনন্দে আনন্দিত হতেন। দূর থেকে কোনো সহকর্মীকে দেখলেও ছুটে গিয়ে আন্তরিকভাবে কথা বলার সেই সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

শবনম ফারিয়ার প্রশ্ন, সময়ের সঙ্গে কী এমন পরিবর্তন ঘটেছে যে একসময়কার আপন মানুষগুলোকে এখন এতটা অচেনা মনে হচ্ছে। তিনি অ্যাক্টর্স ইক্যুইটির নির্বাচনে একসঙ্গে ভোট দেওয়া এবং পয়লা বৈশাখে বশির ভাইয়ের দেওয়া ম্যাচিং শাড়ি পরে ছবি তোলার স্মৃতিও তুলে ধরেন।

সহকর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, কেউ একজন ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’, আবার অন্যজন ‘লালবদর’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। অথচ তাদের পরিচয় ছিল শিল্পী ও সহকর্মী হিসেবে, যারা একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।

স্ট্যাটাসে সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার বিভিন্ন স্মৃতিও তুলে ধরেন শবনম ফারিয়া। বাবার অসুস্থতার সময় অভিনেত্রী তারিনের সহযোগিতা এবং বন্ধুর হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে মামুন আঙ্কেলের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রওনক ও নাসিমের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, বিভিন্ন ঘটনায় তাকে নিয়ে তাদের ‘বিচারে’ বসতে হলেও তারা কখনো তার ওপর রাগ করেননি; বরং তার হয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিমের প্রসঙ্গে শবনম ফারিয়া বলেন, তিনি তাকে ভাই বলে ডাকলেও বাবার মতো মনে করেন। কর্মজীবনে সিনিয়র সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া স্নেহ ও ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সবশেষে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া পারিবারিক সম্পর্কের মতো ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে শবনম ফারিয়া লেখেন, অন্য কোনো পেশায় কর্মস্থলে সহকর্মীদের কাছ থেকে বাবা-মায়ের মতো এমন আদর পাওয়া যায় কি না, তা তার জানা নেই। তবে কীভাবে তাদের মধ্যে এত পরিবর্তন এলো, সেটিই এখন তার কাছে প্রশ্ন।

Leave A Reply


Math Captcha
43 − 36 =