Friday, November 6

ফরিদপুরের নগরকান্দায় সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে এবং সংসার শুরুর পরও কনেপক্ষের করা ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় দেড় মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের রুমন খন্দকারের (২০) সঙ্গে গত ২২ মে ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের ১৫ বছর বয়সী মিলা আক্তারের বিয়ে হয় বলে দাবি করেছে রুমনের পরিবার। তাদের ভাষ্য, গায়ে হলুদ, নাচ-গান, প্রায় ৪০ জন বরযাত্রী এবং ধর্মীয়-সামাজিক রীতি মেনে বিয়ের আয়োজন করা হয়। পরে কনেকে রুমনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে তারা সংসারও শুরু করেন।

তবে কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় বিয়েটি নিবন্ধন করা হয়নি। পরিবারের দাবি ছিল, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়েটি নিবন্ধন করা হবে।

রুমনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর দাম্পত্য কলহ শুরু হলে কনে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এর প্রায় এক মাস পর গত ২ জুলাই রাতে পুলিশ রুমনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

পরে পরিবার জানতে পারে, রুমনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন কিশোরীর দাদি জহুরন খাতুন। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ জুন বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে মিলা আক্তারকে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয়। পরে রুমনদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ ও মারধর করা হয়। পরদিন সকালে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানান তিনি। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে রুমনের পরিবার দাবি করছে, ১৯ জুনের ঘটনার সঙ্গে মামলার বর্ণনার মিল নেই এবং এর আগে ওই কিশোরীর সঙ্গে রুমনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। অন্যদিকে কিশোরী ও তার দাদি দাবি করেছেন, কোনো বিয়েই হয়নি এবং মামলায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে তারা বিচার চান।

নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় সামাজিকভাবে সম্পন্ন বিয়েটি আইনগতভাবে বৈধ নয়। চিকিৎসার কাগজপত্রসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

এদিকে ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেনের মতে, বাল্যবিয়ে আইনগত স্বীকৃত না হলেও এ ঘটনায় বিয়ের পর সংসার করার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিয়ের নিবন্ধন আইনগত ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যবিয়ে হয়ে থাকলে সেটিও আইনবহির্ভূত। কোনো বিয়ে নিবন্ধক এতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 72 = 74