Friday, November 6

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর পরিবারের অন্তত পাঁচ সদস্য বিভিন্ন সরকারি ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও নথিপত্র অনুযায়ী, ইউপি সদস্যের বিবাহিত বোন সাবরিনা আক্তার পিংকির নামে বিধবা ভাতার এমআইএস নম্বর রয়েছে। অথচ তিনি ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রায়পুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে সাবরিনা চট্টগ্রাম সদর রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত এবং তাঁর স্বামী একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মুনির উদ্দিন দাবি করেন, তাঁর বোনের আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। তৎকালীন এসিল্যান্ড ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা হয়েছিল। তবে পুনরায় বিয়ের পরও কীভাবে তাঁর ভাতা বহাল রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি সদস্যের ছেলে মোহাম্মদ আবরার বিন মুনির এবং বড় ভাই মো. আলম উদ্দিনের ছেলে হাসান বিন আলম সাজিদের নামও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আবরার শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে সাজিদ রায়পুর এজাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ইউপি সদস্য মুনির উদ্দিনের দাবি, তাঁর ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি সদস্যের পরিবারের ওই তিন সদস্যের বাইরে তাঁর বাবা মো. শামসুল আলম প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা হেরা বেগম বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। অর্থাৎ ইউপি সদস্যের বোন, ছেলে, ভাতিজা, বাবা ও মা—পরিবারের মোট পাঁচ সদস্য সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী।

একই পরিবারের এতজন সদস্য কীভাবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পেরিয়ে সরকারি ভাতার আওতায় এলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাঁর জন্মগত বাকপ্রতিবন্ধী বোন সেলিনা আক্তার (১৯) সুবর্ণ কার্ড পাওয়ার পরও ভাতা পেতে প্রায় পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছেন। পরে তাঁরা নিজেরাই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে এক বছর আগে তাঁর বোনের নাম ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড পর্যায়ের সুপারিশ, শারীরিক পরীক্ষা ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সরকারি ডেটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আনোয়ারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রিজোয়ান উদ্দিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের পর কোনো নারী পুনরায় বিয়ে করলে বিধবা ভাতা পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভাতা বাতিল হওয়ার কথা।

ইউপি সদস্যের ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি। যাচাইয়ে অসত্য তথ্য বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হচ্ছে বলেও জানান সমাজসেবা কর্মকর্তা।

Leave A Reply


Math Captcha
52 − 42 =