Saturday, November 7

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় সোনার কানের দুলের লোভে ফারজানা খানম (৮) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফারজানা কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের এনামুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত সুরাইয়া আক্তার স্থানীয়ভাবে ঝালমুড়ি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায় ফারজানা। পরে সে নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্কুলের সামনে ফারজানাকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে যেতে দেখা গেছে।

পরে রাতের দিকে সুরাইয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

শিশুটিকে হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সুরাইয়া আক্তারকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, সোনার কানের দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ফারজানা কানে সোনার দুল পরে স্কুলে গিয়েছিল। সুরাইয়া আক্তার তাকে ডেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ আলমারির ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, শিশু ফারজানা ও সুরাইয়া আক্তারের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র এক জোড়া সোনার কানের দুলের জন্যই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 4