Friday, November 6

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, শুধু একটি ঘর নয়—নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগসহ একটি বাসযোগ্য পরিবেশই ‘সর্বজনীন আবাসন’-এর মূল বিষয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য টেকসই ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনবহুল। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এ বাস্তবতায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ‘পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা দেওয়া সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজধানীসহ শহরগুলোর সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।’ এ লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা এতে অংশ নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। এর আগে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
37 + = 39