Friday, November 6

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান ও ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার।

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। প্রত্যেক শিক্ষককে দেওয়া হবে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বক্তব্য দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

দুপুর ২টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এর আগে দুপুর সাড়ে ১টায় আমন্ত্রিত অতিথিরা আসন গ্রহণ করবেন। প্রধান অতিথির আগমনের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর স্বাগত বক্তব্য, বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য এবং প্রতিমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে: পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। ১৯৬৬ সালে শিক্ষকতার মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আইএলও-ইউনেসকোর সুপারিশ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন। এ ছাড়া সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন, চিকিৎসা শিক্ষায় ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত আরও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন তালিকায়।

প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জনের মধ্যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন এবং মাদরাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের ২০ জনের মধ্যে সাধারণ মাধ্যমিকের ১০ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন এবং মাদরাসার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন এবং মাদরাসার ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে।

সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মাননা পাচ্ছেন ২০ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় ৫ জন মেডিকেল কলেজ ও ৫ জন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক সম্মাননা পাবেন।

গুণী শিক্ষক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত সার্চ কমিটি কাজ করেছে। এসব কমিটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যোগ্য শিক্ষকদের প্যানেল তৈরি করে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠায়। পরে সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্বাচন করা হয়।

জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেসকোর উদ্যোগে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল লক্ষ্য শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করা এবং তাদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।

Leave A Reply


Math Captcha
77 − = 68