Friday, November 6

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পটির ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাস্তব কাজ শেষ হলেও তৃতীয় দফায় এর ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

তৃতীয় সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। নতুন মেয়াদ অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৯৫ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

একনেক সভা শেষে আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর কারণ তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম শাকিল আকতার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব শাকিল আকতার বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হাইস্পিড ইন্টারনেটসহ প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকল্পে ইমিগ্রেশনের কিছু যন্ত্রপাতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না করে টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করা হবে। তবে চালুর জন্য অপরিহার্য যেসব কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করতেই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৬৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঠিকাদার পরিবর্তনজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপস নিষ্পত্তি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আরও ২৯৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুবিধা, পণ্য পরিবহন ও ওঠানামা ব্যবস্থা, বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষণ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার পরীক্ষণ এবং বিস্ফোরক শনাক্তকরণ ব্যবস্থার বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো কাজ রয়েছে। এসব কাজের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ তদারকির জন্য পরামর্শক ব্যয়ও ২০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

তবে প্রকল্পের সিডি, কর ও ভ্যাটসহ সরকারের অর্থায়ন বা জিওবি খাতে ব্যয় ১৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা কমানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেড়েছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে, মঙ্গলবারের একনেক সভায় তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পের মধ্যে আটটি নতুন প্রকল্প, তিনটি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
20 + = 22