নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রশিক্ষণে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ২৪৮ জন নারী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন প্রতিবন্ধী এবং ২৬৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী রয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮৯৫ জনের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৭টি ব্যাচে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শতভাগ অর্জন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৩৮ হাজার ৪৮ জন দক্ষতা যাচাইয়ে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ হাজার ৫৭৪ জনকে দক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িতদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৯৫ জনের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে, যা দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের প্রায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।
এদিকে দক্ষতা যাচাইয়ে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী নারীর সংখ্যা ১৩ জন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ১৬১ জন। তাঁদের মধ্যে যথাক্রমে ৮ ও ৯৪ জনকে দক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে ৮ জন প্রতিবন্ধী এবং ৭৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীর।
প্রশিক্ষণে বাজারমুখী বিভিন্ন দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ফ্যাশন ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড স্টিচিং, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, বিউটিফিকেশন, কেয়ারগিভিং, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক নারী প্রচলিত চাকরির বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন না। এ কারণে দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির পাশাপাশি বাড়িভিত্তিক কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন, সেবামূলক উদ্যোগ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
অ্যাসেট প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদের জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দক্ষতার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ফিউচার অব ওয়ার্ক’ তালিকায় নারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পেশাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, হ্যান্ড স্টিচিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কেয়ারগিভিং, বয়স্কদের কেয়ারগিভিং, ফ্যাশন ডিজাইন, মাইক্রোফাইন্যান্স অপারেশনস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন।
বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, একজন নারী অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে শুরু করলে এর সুফল শুধু তাঁর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অ্যাসেট-বিডব্লিউসিআই প্রকল্পের ডেপুটি সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন্ত কুমার মহন্ত বলেন, এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, নারীরা যাতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান বা নিজস্ব ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন—সেটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
পরবর্তী পর্যায়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী যোগ্য নারীদের দ্রুত দক্ষতা যাচাইয়ের আওতায় আনা, দক্ষতার হার বাড়ানো, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের উপযোগী উচ্চতর দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
