নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর বিষয়ে গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিভিন্ন বাস্তবতার কথা উঠে আসার পর নভেম্বরে নির্বাচন শুরু করা যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনিই গত ১৪ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, এবার সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন হবে এবং প্রথম ধাপের ভোট হবে ১২ নভেম্বর।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক যে পরিকল্পনা ছিল, সে পরিকল্পনা নিয়ে তারা সবাই মতামত দিয়েছেন। আমরা এটা নিয়ে কমিশনেও বসব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনটি যতটা সম্ভব ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে।’ তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের আগে আরও কিছু কাজ ও সমন্বয় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সাধারণত নির্বাচন কমিশনের নয়। তবে সরকারের অনুরোধে কমিশন ইউপি নির্বাচন আয়োজন করে থাকে।
ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি জানানোর পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেছিলেন, এ বিষয়ে সরকারকে কিছু জানানো হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এর পরদিন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নিয়ে ইসি নভেম্বরে নির্বাচন শুরুর বিষয়ে নতুন করে পর্যালোচনার কথা জানাল।
পরীক্ষার সূচিই বড় বাধা
ইসি জানিয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু একই সময়ে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
সানাউল্লাহ বলেন, বন্যার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন আয়োজনের কারণে যাতে পরীক্ষাগুলো কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষককে নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির কাজও করতে হয়। বিষয়গুলোকে ‘জেনুইন কনসার্ন’ হিসেবে উল্লেখ করে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান তিনি।
জানুয়ারি নিয়ে ভাবছে কমিশন
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য সময়ের পরিসর খুবই সীমিত। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান শুরু হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
রমজানের পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে কিছুটা সময় পাওয়া যেতে পারে।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘এবারের স্পেসটা খুব টাইট। পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে প্রায় পরীক্ষা রয়েছে। খুবই কম গ্যাপ পাওয়া গেছে। আমরা দুটো জায়গায় নির্বাচন ঢুকিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার দেখতে হবে, আজকে যে উপাত্ত পেয়েছি, তার ভিত্তিতে সেগুলো আদৌ সম্ভব কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই টাইট স্পেসের মধ্যে কীভাবে আমরা সবকিছু অ্যাকোমোডেট করব, সেটা নিয়ে আরও কিছু সাইডলাইন ওয়ার্ক করা দরকার আছে।’
বাজেট ও সমন্বয়ও বিবেচনায়
নির্বাচনের সময় নির্ধারণের আগে বাজেট পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়ের কাজও সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা উপলব্ধি করেছি, আরও দু-একটি সাইডলাইন ওয়ার্ক আমাদের করতে হবে। সাইডলাইন কো-অর্ডিনেশনের কাজ আছে, এর মধ্যে আমাদের বাজেট প্ল্যানিংও রয়েছে। সেটাও অতি শিগগির আমরা সম্পন্ন করব।’
এসব কাজ শেষ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে বলে জানান তিনি।
ফলে ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরুর যে প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল ইসি, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরীক্ষা, শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব, রমজান ও পরবর্তী পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করতে হবে কমিশনকে।

