Friday, November 6

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজ আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে সান্ত্বনা দিতেন এবং তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। অথচ তার মধ্যেই গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার মনোভাব ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্পিকার আরও বলেন, শেখ হাসিনা গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন তা জানতেন বলে তিনি মনে করেন। স্বজনদের সামনে তিনি এমনভাবে আচরণ করতেন, যেন তাদের ফিরে পাওয়ার জন্য তিনিও উদ্বিগ্ন। পরে বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসবের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও স্পষ্ট হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, একজন ব্যারিস্টারকে দীর্ঘদিন হাতকড়া পরিয়ে ‘আয়না ঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ওই ব্যক্তি মুক্ত হয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে স্পিকার বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল।

এ ছাড়া তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছিলেন একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি’। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ও ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন হাফিজ। তিনি বলেন, তাকে পিটিয়ে আহত করার পর হাসপাতালে দেখতে গিয়েও তিনি প্রবেশ করতে পারেননি।

মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে তারা সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে সংসদীয় পদ্ধতির আদলে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
67 + = 69