Friday, November 6

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা-কলকাতা রুটের আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস আবারও চালু হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল-সংক্রান্ত তিন দিনের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের প্রথম দিনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ট্রেনটি ফের চালুর বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই দিনে ঢাকার রেল ভবনে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের ৩৮তম ইন্ট্রা-গভর্নমেন্ট রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম)। তিন দিনের এই বৈঠকে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন, ভারতীয় ঋণে চলমান রেল প্রকল্প, পণ্যবাহী ট্রেন, দুই দেশের রেলওয়ের দেনা-পাওনা এবং সীমান্ত রেল যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বৈঠকের প্রথম দিনে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সভা সূত্রে জানা গেছে, মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর পাশাপাশি মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেসও চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনে অতিরিক্ত মালপত্র পরিবহনের সুবিধার্থে লাগেজ ভ্যান সংযুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও উঠেছে। বর্তমানে যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করা ট্রেনটি পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন রুটে ট্রেন চলাচল করতে পারলে ঢাকা-কলকাতা যাত্রার সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কমে আসতে পারে।

এ ছাড়া দুই দেশের বন্ধ থাকা আরও কয়েকটি রেল সংযোগ পর্যায়ক্রমে চালু করা, সীমান্ত স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আন্তঃদেশীয় রেল অবকাঠামো, চলমান যৌথ প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ও বৈঠকের আলোচনায় ছিল।

প্রথম দিনেই সিদ্ধান্ত না হওয়াকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিনেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে এমন নয়। আরও দুই দিন আলোচনা হবে এবং শেষ দিনে কার্যবিবরণী স্বাক্ষর করা হবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠকের গুরুত্ব বেশি। বৈঠক সফল হলে অন্যান্য খাতে স্থবির হয়ে থাকা দ্বিপক্ষীয় আলোচনাগুলোও সচল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ট্রেনটি পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় রেলসেবা চালু হলে ঢাকা-কলকাতা যাতায়াতের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক প্রয়োজনে দুই দেশের মানুষের চলাচলও সহজ হতে পারে। সড়ক ও আকাশপথের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের সুযোগ বাড়লে যাত্রীদের সময় ও খরচ কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ওই বছরের ১২ আগস্ট অভ্যন্তরীণ ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হলেও মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেসসহ আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো আর চালু হয়নি।

দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকায় দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মন্ত্রণালয় পর্যায়ের এই বৈঠক এবং একই সময়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের আশাবাদী বক্তব্য ট্রেনটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 5 = 1