Tuesday, November 3

ভারতের আসামে চলমান বন্যার প্রভাবে ফের পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। জেলার আরও কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আপাতত সিলেটে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।

শুক্রবার সকাল ৬টার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও দুপুর ১২টার হিসাব অনুযায়ী অধিকাংশ নদীর পানি সামান্য কমতে শুরু করেছে।

সুরমা ও কুশিয়ারার বিভিন্ন পয়েন্টের মধ্যে কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা দুপুরে আরও ২ সেন্টিমিটার কমে। জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও দুপুরে তা আরও ২ সেন্টিমিটার কমেছে।

এ ছাড়া শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭৪ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। শেওলায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও দুপুরে আরও ৪ সেন্টিমিটার কমে আসে।

অন্যদিকে, সারিঘাটের সারিগোয়াইন নদী, জাফলংয়ের পিয়াইন নদী, গোয়াইনঘাটের সারিগোয়াইন নদী, কানাইঘাটের লোভাছড়া নদী এবং কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুরের ধলাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।

কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাতের কোনো পূর্বাভাস নেই। ফলে নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও তা বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “ভারতের আসামের বন্যার পানি নামতে শুরু করায় সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বেড়েছে। তবে নতুন করে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় সিলেট অঞ্চলে আপাতত বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
89 − = 80