সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকার পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগের অবস্থান।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাজীপুর গ্রামের বিবেকের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে আরাধ্যা এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিকলা গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে তাইবা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০৬ জনই শিশু। তবে এ পর্যন্ত মাত্র চারজনের মৃত্যুর কারণ পরীক্ষার মাধ্যমে হাম হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। জেলাটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলায় ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আটজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চারজন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

