রাবি প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এটিকে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একক অর্জন হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, খুন, গুম, দমন-পীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের সংস্কৃতি থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে। মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এটি ছাত্র-জনতাসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের ফসল। তাই এ ইতিহাস বিকৃত করার বা এককভাবে কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অন্যায়, ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. মামুনুর রশীদ।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সাদিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শিক্ষকরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর চেতনা ধারণ করে শিক্ষাঙ্গনে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা।

