Wednesday, November 4

কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থায় যাত্রা শুরু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সেখানে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফলাফল দেখতে পারছেন।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেমে’ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে তারা তাৎক্ষণিক ফলাফলের পাশাপাশি ভুল উত্তরের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন।

সিস্টেমটিতে রয়েছে প্রশ্নব্যাংক, যার মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজে প্রশ্ন তৈরি এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।

প্রশাসনের জন্যও পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রয়েছে। এতে কাগজের ব্যবহার, সময়ের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতিটি তাঁর কাছে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই উপকৃত হবেন এবং নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ই-এক্সাম তাঁদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফলের পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। ফলে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পদ্ধতিটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কাগজবিহীন পরীক্ষা, দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফল প্রকাশ এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনায় নির্ভুলতা বাড়ানো এ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে আইসিই বিভাগে পদ্ধতিটির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষাপদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর শিক্ষণ অভিজ্ঞতা।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 7