সাভারের বিসিক ট্যানারি শিল্পনগরী থেকে কাঁচা চামড়ার বর্জ্য বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় দেশে জিলেটিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলো কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কাঁচা চামড়ার বর্জ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ)।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, জিলেটিন উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়ার বর্জ্য বা টুকরা, যা ‘কাউ হাইড ট্রিমিংস’ নামে পরিচিত। এসব বর্জ্য সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরী থেকে সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে জিলেটিন ও শিল্প প্রোটিন পাউডার তৈরি করা হয়। উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশ জেডডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে জিলেটিন উৎপাদন করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তাদের রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আশুলিয়ার মির্জানগরের তাকসুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জেডডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড চীনা বিনিয়োগে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লু চেংফেং সম্প্রতি কাঁচামাল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর বিএফএলএলএফইএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে কাঁচা চামড়ার বর্জ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জেডডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানির আবেদনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় জিলেটিন শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে।

