গাইবান্ধায় বিয়ের আগের দিন অসুস্থ হয়ে মা’রা গেছেন আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১) নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ছিল তার বিয়ের দিন।
সৌমিক গাইবান্ধা জেলা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সুলতান মিয়ার ছেলে। সম্প্রতি তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। হবু কনের বাড়িও একই পাড়ায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন সৌমিক। চার দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে তার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে স্বজনরা তাকে জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধ কিনে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে বিকেলের দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। রাতে তাকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে থাকতে হয় সৌমিককে। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৌমিকের বন্ধু ছামছুর রহমান এ ঘটনার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সৌমিকের বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবারেই চলছিল নানা আয়োজন। বৃহস্পতিবার ছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। কনের বাড়িতে সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জার গেট, প্রস্তুত করা হয়েছিল বাড়িঘর। সৌমিকের বাড়িতেও চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি।
কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন তার আকস্মিক মৃত্যুতে দুই পরিবারের আনন্দের আয়োজন শোকে পরিণত হয়।
