সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৪টি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষক রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে নওগাঁ ইউনিয়নের পংরৌহালী গ্রামের কৃষক তোরাপ আলীর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।
এর আট দিন পর ২২ আগস্ট রাতে দেশিগ্রাম ইউনিয়নের সিংগাড়পাড়া গ্রামের দুটি গোয়ালঘর থেকে আরও পাঁচটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে কৃষক মো. বিপ্লব হোসেনের চারটি এবং সজল হোসেনের একটি গরু রয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা মহল্লায় কৃষক হায়দার আলীর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গাভী, একটি ষাঁড় ও দুটি বকনা বাছুর নিয়ে যায় চোরের দল। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
এর দুই দিন পর ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বারুহাস ইউনিয়নের পৃথক দুটি বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। পেঙ্গুয়াড়ি গ্রামের মো. মন্টু মিয়ার বাড়ি থেকে চারটি এবং কুসুম্বি গ্রামের কৃষক সাজেদুল ইসলামের বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরি হয়। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় নয় লাখ টাকা।
কৃষক হায়দার আলী বলেন, ‘রাতের খাবার খাওয়ার পর গোয়ালঘরে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাতের কোনো একসময় চোরের দল গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গাভী, একটি ষাঁড় ও দুটি বকনা বাছুর নিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গরুগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় আমি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

