Friday, August 14

গত মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের নানা বিতর্কেই বেশি শিরোনামে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এর প্রভাব পড়েছিল দলের পারফরম্যান্সেও। কোনো ট্রফি না জিতেই মৌসুম শেষ করার পর ডাগআউটে এসেছে পরিবর্তন। নতুন কোচ জোসে মরিনিও মৌসুম শুরুর আগেই ড্রেসিংরুমে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম চালু করেছেন।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবারও রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছেন মরিনিও। প্রথম দফায় তাঁর অধীনে ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা জিতেছিল রিয়াল। তবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শেষটা হয়েছিল হতাশাজনক। এবার জাবি আলোনসোর সংক্ষিপ্ত অধ্যায় এবং অন্তর্বর্তীকালীন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার বিদায়ের পর দলকে সামলানোর দায়িত্ব আবারও মরিনিওর হাতে তুলে দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

অহংয়ের লড়াই ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ফেরাতেই মরিনিওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতির শুরু থেকেই ভালদেবেবাসে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ।

স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক এএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন রুটিনে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন মরিনিও। পুষ্টি, চোটের পুনর্বাসন এবং সময়ানুবর্তিতার মতো বিষয়গুলোতে জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশনা।

খাবারের ক্ষেত্রেও ফুটবলারদের স্বাধীনতা কমেছে। এখন খেলোয়াড়েরা নিজেদের পছন্দমতো খাবার বেছে নিতে পারবেন না। ক্লাবের পুষ্টিবিদরা সকালের নাশতা ও বিকেলের খাবারের তালিকা নির্ধারণ করে দেবেন। শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মটি দল ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে।

সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে অনুশীলনে দেরি করলে জরিমানা করা হতো। এখন দেরি করে আসা খেলোয়াড় অনুশীলনে অংশ নেওয়ার সুযোগই পাবেন না। তাঁকে একা জিমে অনুশীলন করতে হবে। পাশাপাশি অনুশীলন কিংবা দলীয় সভা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভালদেবেবাসে উপস্থিত থাকা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মরিনিও। খেলোয়াড়দের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চোটের পর পুনর্বাসনের পুরো প্রক্রিয়া ক্লাবের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন করতে হবে।

মরিনিওর এসব কঠোর নিয়ম খেলোয়াড়েরা এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ছাড়াই মেনে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে এএস। বরং ড্রেসিংরুমে ঐক্য ফেরানোর এই উদ্যোগ ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন তাঁরা। রিয়ালের এক অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এএস জানিয়েছে, ক্লাবের বর্তমান পরিবেশ বেশ ভালো।

তবে মরিনিওর কঠোর শৃঙ্খলা এবং নিয়ন্ত্রণ রিয়ালের তারকা খেলোয়াড়েরা দীর্ঘমেয়াদে কতটা মেনে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রথম মেয়াদের মতো এবারও তাঁর সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্পর্ক কোনো বিরোধে জড়ায় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রিয়াল সমর্থকেরা।

Leave A Reply


Math Captcha
2 + 8 =