বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হয়নি নেইমারের। চারটি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালি ট্রফির দেখা পাননি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। প্রতিবারই চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। আর তাই বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজের আনন্দের একটি অংশ নেইমারের জন্য উৎসর্গ করলেন স্পেনের তারকা ফুটবলার নিকো উইলিয়ামস।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ম্যাচ শেষে শিরোপা জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমারের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা জানান উইলিয়ামস।

স্পেনের এই তারকা বলেন, “আমি খুবই খুশি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। নেইমার আমার আইডল। আশা করি, তিনি আমাদের খেলা দেখেছেন। এই শিরোপা তার জন্যও।”

ছোটবেলা থেকেই নেইমারকে অনুসরণ করে বড় হয়েছেন নিকো উইলিয়ামস। ব্রাজিলিয়ান তারকার স্কিল, খেলার ধরন ও ব্যক্তিত্ব তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশ্বকাপ জয়ের মতো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে তাই নিজের আদর্শকে স্মরণ করতে ভোলেননি তিনি।

ফাইনালে ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয় মুহূর্তের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন উইলিয়ামস। অতিরিক্ত সময়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে সতীর্থ মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

তবে গোল না পেলেও স্পেনের জয়সূচক গোলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই উইঙ্গার। তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকেই অতিরিক্ত সময়ে স্পেনকে শিরোপা এনে দেন ফেরান তোরেস।

নিজের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে উইলিয়ামসের কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, “গোল বাতিল হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। আমরা তো জিতেছি!”

এদিকে, ৩৪ বছর বয়সী নেইমার ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। যদি শতবর্ষী বিশ্বকাপে তাকে আর দেখা না যায়, তবে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্নটি হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

তবুও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এক তরুণ ফুটবলারের কণ্ঠে নিজের নাম শুনে হয়তো কিছুটা হলেও হাসবেন নেইমার। কারণ ফুটবলে ট্রফি যেমন ইতিহাস লেখে, তেমনি একজন কিংবদন্তির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 5