আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর উত্তেজনার মাঝেই একটি দৃশ্য নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। যোগ করা সময়ে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে দুই হাত কবজির কাছে আড়াআড়িভাবে তুলে ‘এক্স’ আকৃতির একটি সংকেত দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা আলোচনা—এই সংকেতের অর্থ কী?
কী ঘটেছিল?
ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল করার পর মিসরের ডাগআউটে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন কোচিং স্টাফরা।
এ সময় ডাগআউটের সামনে দাঁড়িয়ে হোসাম হাসান দুই হাত আড়াআড়ি করে ‘এক্স’ সংকেত দেখান। পরে সহকারী রেফারিরা বিষয়টি প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের নজরে আনেন। রেফারি ডাগআউটের সামনে এসে হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে কার্ড দেখানোর পরও তিনি একই সংকেত দেখাতে থাকেন।
‘এক্স’ সংকেতের অর্থ কী?
কবজির কাছে দুই হাত আড়াআড়ি করে ‘এক্স’ চিহ্ন তৈরি করা ফিফার একটি অফিশিয়াল বৈষম্যবিরোধী সংকেত।
ফিফার প্রটোকল অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়, কোচ বা দলের কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে মাঠে বর্ণবাদী বা অন্য কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ ঘটেছে, তাহলে তিনি এই সংকেত ব্যবহার করে ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাতে পারেন।
এই সংকেত দেখানোর অর্থ ম্যাচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। বরং এটি ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা, যাতে ঘটনাটি তদন্ত ও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
ফিফার তিন ধাপের প্রটোকল
২০২৪ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে এই প্রটোকল অনুমোদিত হয়। বৈষম্যের অভিযোগ এলে রেফারির জন্য তিনটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে—
- প্রথম ধাপ: পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত করা।
- দ্বিতীয় ধাপ: ঘটনা চলতে থাকলে উভয় দলকে সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে খেলা বন্ধ রাখা।
- তৃতীয় ধাপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ম্যাচ স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেন এই সংকেত?
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোসাম হাসানের দাবি ছিল, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের পর উদ্যাপনের সময় বর্ণবাদী গালিগালাজ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ জানাতেই তিনি ফিফার নির্ধারিত ‘এক্স’ সংকেত ব্যবহার করেন।
তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং স্বাধীনভাবে এর সত্যতাও নিশ্চিত হয়নি।
রেফারির সিদ্ধান্ত
প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ম্যাচ বন্ধ করেননি। বরং হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও ফুটবলবিশ্বে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাংশের মতে অভিযোগটি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল, অন্যদিকে আরেক অংশের মত, ফিফার পূর্ণ প্রটোকল চালুর মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি তখন ছিল না।
২০২৬ বিশ্বকাপে এই ‘এক্স’ সংকেত প্রথমবারের মতো ফিফার দৃশ্যমান ও আনুষ্ঠানিক বৈষম্যবিরোধী প্রটোকলের অংশ। তাই হোসাম হাসানের এই অঙ্গভঙ্গি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনার একটি হয়ে উঠেছে।

