দালালের প্ররোচনায় ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর-এ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মারা গেছেন সুনামগঞ্জ জেলার ১০ যুবক। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে জমিজমা বিক্রি করে ইউরোপমুখী এই যাত্রা শুরু করেছিলেন তারা। কিন্তু স্বপ্নের দেশে পৌঁছানোর আগেই সাগরে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাই উপজেলার ৪ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। তবে প্রশাসন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
গত শুক্রবার ক্রিট দ্বীপের অদূরে ২৬ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকায় তারা ছিলেন, যাদের অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। শনিবার বিষয়টি জানতে পারেন স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দালালদের মাধ্যমে ১১-১২ লাখ টাকা দিয়ে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কেউ তিন মাস, কেউ চার মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে ‘গেমঘর’-এ রেখে পরে নৌকায় তুলে গ্রিসের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মাঝপথে খাদ্য ও পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর কয়েকজনের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে দালালদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে পরিবারগুলো এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দিরাই ও জগন্নাথপুরে অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছে, আরও দুইজনের বিষয়ে যাচাই চলছে।

