বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা) চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের উৎসব হলে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুরগেন ওয়েস্টারমেয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনায় স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বিমানের আর্থিক কৌশল পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘপথের রুটে বেশি যাত্রী পরিবহন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে এ৩২১নিও দিয়ে বিমানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহর আরও আধুনিক ও সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো দেশকে তুষ্ট করার জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করেই এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজগুলো বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেও ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এয়ারবাসের কাছে নির্ধারিত সময়ের আগেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের অনুরোধ জানান। ২০৩০ সালের আগেই একটি উড়োজাহাজ হাতে পাওয়া গেলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী চাহিদা পূরণে তা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিমানের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, নিজস্ব আয় ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচালিত বিমান কখনো ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি। এখন যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন ও লাভজনকতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিমানের সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুরগেন ওয়েস্টারমেয়ার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠীর কারণে দেশটির এভিয়েশন খাতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা থেকে বিশ্বের ১০টি প্রধান শহরে বছরে সাত লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দীর্ঘপথের বাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। আর এ৩২১নিও দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় কূটনীতিকরা চুক্তিটিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

