ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলেও মামলাটির বিচার এখনো শুরু হয়নি। মামলার ২৮ আসামির মধ্যে ১৭ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও বিচারিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ‘চোর সন্দেহে’ তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম পুনরায় তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নতুন করে আরও সাতজনসহ মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তোফাজ্জল হলের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর হলের মাঠে গেলে তাকে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করা হয়। পরে তাকে হলের মূল ভবনের দিকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মারধর করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একপর্যায়ে ছাত্ররা বুঝতে পারেন মোবাইল ফোন চুরির ঘটনার সঙ্গে তোফাজ্জলের কোনো সম্পর্ক নেই। পরে তাকে হলের ক্যান্টিনে খাবার দেওয়া হলেও এরপর আবারও তাকে মারধর করা হয়। শিক্ষকরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তোফাজ্জলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে রেদোয়ানুর রহমান, রাশেদ কামাল, আবু রায়হান, মনিরুজ্জামান, আহসান উল্লাহ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন, ওয়াজিবুল আলম ও শেখ রমজান আলী রকি জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৭ আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম জানিয়েছেন, পলাতক ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিহত তোফাজ্জলের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার শুরু হয়নি। এভাবে চললে কীভাবে বিচার শেষ হবে। আমরা দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার চাই।’
মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, প্রতিটি হাজিরার দিন তিনি আদালতে গিয়ে মামলার খোঁজ নেন। প্রকৃত আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলাটি জজকোর্টে বদলি হলে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর দ্রুত সাক্ষীদের হাজির করে মামলাটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
